Wednesday , December 13 2017
শিরোনাম
You are here: Home / সংবাদ সন্মেলন / শ্রীমঙ্গলে ২ সন্তানের জননীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি

শ্রীমঙ্গলে ২ সন্তানের জননীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি

শ্রীমঙ্গলে ২ সন্তানের জননীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি
মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার
শ্রীমঙ্গলে ২ সন্তানের জননী ফেরদৌসি আক্তার এর  বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনায় মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে তার দেবর ডা. সাইদুর রহমান। গত ১৫ আগস্ট ভাবী ফেরদৌসি আক্তার বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনায় মৃত্যুর জন্য বড় ভাই জিয়াউল হক@ জিহাদ অনেকটা দায়ী করে গত ৩১ আগস্ট শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে জানান- নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পার্টনার করার শর্তে সৌদিআরব প্রবাসী বড় ভাই সাইফুর রহমান এর পাটানো ১১ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা আন্তসাৎ করতে চেয়ে ছিলেন জিহাদ। এ নিয়ে ভাবী ও তার ভাই জিহাদ এর সাথে ব্যাবসা প্রতিস্টানের লভ্যাংশ এর টাকা নিয়ে মনো মালিন্য চলছিল। বড় ভাই জিহাদ এর প্রতারণায় ভাবী মানসিক টানাপোড়নে ছিলেন। আন্তহত্যার কিছুক্ষন আগেও তার ভাইর সাথে উত্তপ্ত কথা-বার্তা ছলছিল। এর কিছুক্ষন পর ঘটে আন্তহত্যার ঘটনা। সমন্ধী জিয়াউল হক@ জিহাদ এর প্রলোভনে পড়ে তার ব্যবসা প্রতিস্টানে পার্টনার করার শর্তে সৌদি আরবের ব্যাংক আল-জাজিরা থেকে ২০১৫ সালের ১৩ জুন ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা, ১১ জুলাই ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, ১৫ আগস্ট ৫৪ হাজার টাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর ১ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯শত ৯৯ টাকা, ২৭ অক্টোবর ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৯শত ৯৯টাকা, ৩১ ডিসেম্বর ৬০ হাজার ১ টাকা, ২০১৬ সালে ১৪ জানুয়ারী ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, ২৫ জানুয়ারী ২২ হাজার ৯শত ৯৯ টাকা, ১২ মার্চ ১৫ হাজার টাকা, ৬ এপ্রিল ৮৪ হাজার ৯শত ৯৯ টাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারী ১০ হাজার টাকা, ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল ১৫ হাজার টাকা ও ২৪ মে ৩২ হাজার টাকা প্রদান করেন। সমন্ধী জিয়াউল হক@ জিহাদ এর সাথে পাওনা টাকা নিয়ে চরম বিরোধ। একদিকে স্বামী সন্তানের ভবিষ্যত অন্যদিকে বড় ভাই জিহাদ প্রতারনা করে টাকাগুলো আন্তসাৎ করতে চেয়েছেন। এসব মানসিক যন্তনায় তিনি হয়তো আন্তহত্যা করেছেন। তিনি সৌদিআরব প্রবাসী বড় ভাই সাইফুর রহমান এর পাটানো ১১ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা ফেরত ও তার ভাবী ফেরদৌসি আক্তার এর  বিষপানে আন্তহত্যার ঘটনায় মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সুষ্ট তদন্ত দাবী করে । উল্লেখ্য- ফেরদৌসি আক্তার হত্যাকারীদের শনাক্তকরে দ্রুত গ্রেফতার খুনিদের দৃষ্টান্তমৃলক শাস্তি দাবী করে গত ৩০ আগস্ট শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তার বড় ভাই জিয়াউল হক@ জিহাদসহ তার পরিবারের লোকজন। ৩০ আগস্ট শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন সম্মেলনে দাবী করা হয়, আওই গ্রামের আবুল বাসার এর কন্যা ফেরদৌসী  আক্তার এর সাথে ২০১০ ইং সালে রেজিঃ নিকাহনামা মৃলে মাধবপাশা গ্রাামের মৃত দলিলুর রহমান এর পুত্র সৌদি আরবপ্রবাসী সাইফুর রহমান এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হন। তাদের দাম্পত্য জীবন চলা অবস্থায় মতিউর রহমান তকি ও সালমা আক্তার জন্ম গ্রহন করে। সালমা আক্তার জন্ম গ্রহন করার পর থেকেই তার পিত্রালয় থেকে যৌতুক হিসাবে পাঁচ লক্ষ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃস্টি করলে সে পিত্রালয় থেকে টাকা এনে দিতে অপরগতা প্রকাশ করে। এ ঘটনায় গত ১৫ আগস্ট সন্ধায় ফেরদৌসির শশুরালয়ের লোকজন তাকে কিল, ঘুষি, লাথি, মুরকর মারিয়া শ্বাসরুদ্ধ করিয়া প্রানে হত্যার চেস্টা করে এবং জোরপৃর্বক মুখে বিষ দিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে, জিয়াউল হক@ জিহাদ ফেরদৌসী  আক্তার এর মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তার ছেলে মতিউর রহমান তকি (৫) ফোন রিসিভ করে জানায় তার মা মারা গেছে। মামলার বাদী জিয়াউল হক@ জিহাদ জানান- ফেরদৌসী  আক্তারকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়। আমাদের উভয়ের বাড়ী পাশা-পাশি হলেও বোনের মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়নি। তাছাড়া, গোপনে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্য্র থেকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে তার লাশ নিয়ে আসলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতঃ ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে তার লাশ গুম করার উদ্যাশ্যে মৌলভীবাজার থেকে গাড়ীযোগে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সর্বশেষ এ ঘটনায়  জিয়াউল হক@ জিহাদ বাদী হয়ে  মাধবপাশা গ্রাামের মৃত দলিলুর রহমান এর পুত্র সৌদি আরবে অবস্থানরত স্বামী সাইফুর রহমান (৩২), তার ছোট ভাই সাইদুর রহমান (২৬), দাউদুর রহমান (২৯), মোঃ সিপাতুর রহমান সিপাত (২৪),জ্যেষ্ট ভাই মশিউর রহমান রুবেল (৩৮),  ভাবী সুমি আক্তার (৩০), তার মা শাশুরী সামছুননাহার (৬০) ও তার বড় বোন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার কাজী জুবায়ের ইসলাম এর স্ত্রী লাভলী আক্তার (৪০) কে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ইং সনের (সংশোধিত-২০০৩) এর ১১/ (ক)/৩০ আইনে গত ২৮ আগস্ট মামলা দায়ের করেন।
+

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top