Friday , October 20 2017
শিরোনাম
You are here: Home / জেলা / রাজনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স ডরমেটরীতে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অবৈধভাবে স্বামীসহ বসবাস করছেন সিনি: ষ্টাফ নার্স

রাজনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স ডরমেটরীতে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অবৈধভাবে স্বামীসহ বসবাস করছেন সিনি: ষ্টাফ নার্স

রাজনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স ডরমেটরীতে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অবৈধভাবে স্বামীসহ বসবাস করছেন সিনি: ষ্টাফ নার্স
মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার ঃ
রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ডরমেটরীতে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অবৈধভাবে স্বামীসহ বসবাস করছেন সিনিয়র ষ্টাফ নার্স নাজমা বেগম। মেস বা হোস্টেলের মত ব্যাচেলর ও সিঙ্গেল নারী নার্সদের থাকার জন্য নির্মিত এ ডরমেটরীতে সিনিয়র ষ্টাফ নার্স নাজমা বেগম অবৈধভাবে স্বামীসহ বসবাস করার কারণে ব্যাচেলর ও সিঙ্গেল নারী নার্সরা লজ্জায় এখানে থাকেননা। অভিযোগ রয়েছে- অর্থের বিনিময়ে তিনি ডরমেটরীতেই এমআর এবং ডিএন্ডসি করে থাকেন। রোগীর প্রতি অবহেলা, অসদাচরন ও শারিরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে একাধিক। গত ২৩ আগস্ট ২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগও করেন একজন ভূক্তভোগী- যদিও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গত ২৩ আগস্ট ২০১৬ সালের ওই অভিযোগে প্রকাশ- উপজেলার খারপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী সুফিয়া বেগম ৩ মাস আগে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ইমপ্ল্যান্ট গ্রহণ করেন। গত ২০ আগষ্ট ২০১৬ সালের সন্ধ্যায় ইমপ্ল্যান্ট পদ্ধতিতে জটিলতা দেখা দেয়ায় সুফিয়া বেগম গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা বিভাগে কোনো সীট খালি না থাকায় কর্তব্যরত নার্স রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুরুষ বিভাগের একটি খালি সীট বরাদ্দ করে রোগীর শরীরে স্যালাইন পুশ করেন। পরে রাত ১০ টার দিকে সিনিয়র ষ্টাফ নার্স নাজমা বেগম ডিউটিতে এসে ওই রোগীর কাছে জানতে চান কে তাকে পুরুষ বিভাগে সীট দিয়েছে। ইতিপূর্বের কর্তব্যরত নার্স সীট দিয়েছেন জানালে ষ্টাফ নার্স নাজমা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীর শরীর থেকে স্যালাইন খুলে নেন। এতে স্যালাইন পুশকৃত স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এসময় পাশের সীটের রোগীরা প্রতিবাদ করলেও তিনি কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি। উল্টো রোগীর স্বামীকে ধমক দিয়ে বলেন- বেশী কথা বললে হাসপাতাল থেকে বের করে দেবেন। এদিকে সারারাত রক্তক্ষরণে রোগী দূর্বল হয়ে পড়লে পরদিন সকালে ডা. আমজাদ হোসেন তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রেফার করেন। ষ্টাফ নার্স নাজমা বেগমের চরম অবহেলা ও অসদাচরনের কারণে পরবর্তীতে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে রোগীর স্বামী  নুরুল ইসলাম সিনিয়র ষ্টাফ নার্স নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জনকে অনুলিপিসহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু, প্রভাবশালী সিনিয়র ষ্টাফ নার্স নাজমা বেগমের প্রভাবে সেই অভিযোগটি আলোর মুখ দেখেনি আজও। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নার্স ডরমেটরীতে অবৈধভাবে স্বামীসহ বসবাস এবং রোগীর প্রতি অবহেলা, অসদাচরন ও শারিরিক নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ সত্তেও, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কখনও সিনিয়র ষ্টাফ নার্স নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়টি রহস্যজনক।

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top