Wednesday , December 13 2017
শিরোনাম
You are here: Home / দূনীতি / উলিপুরে ত্রাণের লাখ-লাখ টাকা আত্মসাত

উলিপুরে ত্রাণের লাখ-লাখ টাকা আত্মসাত

উলিপুরে ত্রাণের লাখ-লাখ টাকা আত্মসাত
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক
কুড়িগ্রামের উলিপুরে সম্প্রতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণের জন্য দেয়া লাখ-লাখ টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে একটি সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে। ত্রাণের টাকা আতœসাৎ করার পর থেকে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের কর্মকর্তা ও উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সাহেব আলী আত্মগোপন করেছেন। ওই চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার গুলো ।
এবারে জেলায় ২য় দফা বন্যায় ৬২টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে নদ-নদীর ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবার। বানভাসি মানুষদের জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান,সংস্থা ছাড়াও অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে অর্থ কিংবা ত্রাণ সহায়তা নিয়ে।
ত্রাণ সহায়তা হিসেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুক্তাদির চৌধুরী কুড়িগ্রামের ভিটেমাটি হারা ৫১টি পরিবারকে দুই ক্যাটাগরিতে প্রায় ৩০লাখ টাকা বিতরণ করেন বলে বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে।
গত শনিবার ঘর-বাড়ি মেরামতসহ এক মাসের খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির প্রচারণা বিমুখ ব্যবস্থাপনা পরিচালক দুঃস্থ পরিবার গুলোকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দেন তাদের রংপুর অফিসে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি সিন্ডিকেট চক্র প্রতারণা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন যারা, জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কুমার পাড়া গ্রামের সৈয়দ আলীর স্ত্রী কাঞ্চনমালা (৩৮), ধনারবি দাসের স্ত্রী মালতি রবিদাস (৪০), নেছাব উদ্দিনের স্ত্রী আজিরন বেগম (৫২), মহিলা বেগম (৪৫), কদমতলা গ্রামের ভগলু হোসেনের ছেলে আবুল হোসেন (৪৮), মৃত রাজেনের স্ত্রী স্বরবালা (৪৫), আবিরউদ্দিনের স্ত্রী ছবিরন নেছা (৫০), অনন্তুপুর ঘাটে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত কফুল্লা আলী (৭০), অন্যের জমিতে আশ্রিত পালপাড়ার মৃত মোহনের স্ত্রী ভিক্ষুক ছবিতারাণী দাস (৫২), তাঁতীপাড়ার মৃত কানুর স্ত্রী বৃন্দেশ^রীসহ ১০ জন দরিদ্র পরিবারের সদস্য।
প্রতারণার স্বীকার বৃদ্ধ কফুল্লা আলী জানান, এবারের বন্যায় চরের মধ্যে হামার বাড়ি-ঘর সউগ ভাসি গেছে। ঘাটের কাছে মানষের ছাপড়া ঘরে কোন রকমের আছং। শনিবার সকালে সাহেব আলী মেম্বর মোক ডাকে নিয়া কয় চল বাহে চাচা রংপুর যামো। অটে গেলে এক অফিসার তোমাক টাকা দিবে। মাইক্রোত করি নিয়া গেল নাস্তা করেয়া। রংপুরে যায়া একটা অফিস থাকি দুটা লোক আসি মোক গাড়িত থাকি নামাইল। মোক ধরি তিন কি চার তালার উপর তুলি ধরিয়া। পরে একটা লোক আসি টাকার একটা খাম দিয়া কইল চাচা বাহে এই খামে অনেক টাকা আছে কাকো দিবেন না। হামরা ১০ জন টাকা নিয়ে আসার সময় সাহেব আলী সবার কাছ থেকে খাম নিয়ে একটা খাম ছিড়ে তিন হাজার করি টাকা হামাক দেয়। বাকি খামগুলা ব্যাগের মধ্যে রেখে দেয় বলে জানান এই বৃদ্ধ।
ধনারবি দাস বলেন, আমার স্ত্রী পাগলি। তার বুদ্ধি-সুদ্ধি কম। বন্যায় চরের ঘর-বাড়ি নষ্ট হওয়ায় বাঁধের মধ্যে ৩টা টিন দিয়ে বসবাস করছি। সাহেব আলী গত শনিবার সকালে এসে আমাকে বলেন চাচা তোমাক ৩ হাজার টাকা দিবো। এজন্য তোমাক রংপুর যাওয়া লাগবে। আমিও রাজি হয়ে যাই। অভাবের মধ্যে ৩ হাজার টাকা পাওয়াও তো উপকার। পরে তাদের সাথে আমিও যাই। একটা ঔষধ কোম্পানির অফিসে নিয়ে যায় সবাইকে। সেখানে অনেকের কাছে শুনেছি বন্যায় যাদের ঘর-বাড়ি নষ্ট হয়েছে তাদেরকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দিবে ঘর-বাড়ি আর খাদ্য কেনার জন্য।
ডেপুটি সেলস ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম জানান,আমাদের এমডি স্যার কাউকে সাহায্য সহযোগিতা করেন ঠিকই। তবে তিনি দান করলে ডান থেকে বাম হাতকে জানান না। ফলে কাকে কত করে সাহায্য করেন তিনি এটা বলা মুশকিল। তিনি যেভাবে দান করেন তাতে মোটা অংকের টাকাই থাকে। তবে কুড়িগ্রামে কতজনকে কত টাকা বিতরণ করা হয়েছে এটা মাইনুল ইসলাম ও রংপুরে আজাদ সাহেব বলতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, কেউ যদি টাকা আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে স্যারকে বলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন,ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনা শোনার পর আমি সাহেব মেম্বারকে ফোন দিলে সে জানায় ৫০ হাজার টাকা না ১০ হাজার টাকা ছিল খামের মধ্যে। সবাইকে তিন হাজার টাকা দেয়া হয়েছে বাকি টাকা যাতায়াতের জন্য খরচ হয়ে গেছে। তবে এই টাকা আত্মসাৎ করার পেছনে একটা সিন্ডিকেট কাজ করেছে। যাদের জন্য এই ইউনিয়নের একটি বদনাম হয়ে গেল। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। আরো বলেন, প্রচারণা বিমুখ দাতা সংস্থা বা ব্যক্তিগণ দান করার আগে প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে বণ্টন করার পরামর্শ দেন।

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top