Tuesday , November 21 2017
শিরোনাম
You are here: Home / দেশ / দু’বছর লিভটুগেদার, অতঃপর…

দু’বছর লিভটুগেদার, অতঃপর…

দু’বছর লিভটুগেদার, অতঃপর…

দু’বছর লিভটুগেদার, অতঃপর...

নাটোর, ০৮ সেপ্টেম্বর- বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন করার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। কেউ আবার প্রেমিক পুরুষকে বিয়ে করতে না পেরে বিষপানও করে। কিন্তু প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে উল্টো প্রেমিকের বিষপান করার ঘটনা বিরল। তাও আবার প্রেমিকার প্রতারণায় ক্ষোভে দুঃখে অপমানে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া!

বিরল এই ঘটনাই ঘটেছে নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের দাঁইড়পাড়া গ্রামের সাহানুজ্জামান মেকারের বাড়িতে।

 ঢাকার আশুলিয়ায় দুই বছর ধরে প্রেমিকা সাগরি খাতুনের সঙ্গে লিভটুগেদার করার পর লালপুরে প্রেমিকার বাড়ি গিয়ে  ক্ষোভে-দুঃখে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন প্রেমিক পুরুষ কাউসার হোসেন।

প্রেমিকা সাগরি খাতুন (২৫) নাটোরের লালপুর উপজেলার দাঁইড়পাড়া গ্রামের সাহানুজ্জামান মেকারের মেয়ে ও ঢাকার আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার কর্মী। অপরদিকে, নিহত প্রেমিক কাউসার হোসেন (৩৫) বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রিয়াজুল মির্জার ছেলে ও আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার কাভার্ড ভ্যানচালক।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, বছর দুয়েক আগে সাগরি আর কাউসারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর তারা ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয়। এভাবে তারা গেল দুই বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস (লিভটুগেদার) করেন। এর মধ্যে কয়েকবার প্রেমিকা সাগরির বাড়ি দাঁইড়পাড়া গ্রামেও আসেন কাউসার। এতে তার সঙ্গে সাগরির বাবা মা ও আত্মীয় স্বজনেরও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

আগের মতোই গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা থেকে দাঁইড়পাড়া গ্রামে সাগরির বাড়িতে আসেন কাউসার। পথের ক্লান্তিতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। এদিকে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাগরি ট্রাকে করে আশুলিয়া থেকে আনা আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল বাড়িতে দ্রুত নামিয়ে নেন।

এর মধ্যে রাত ৮টার দিকে কাউসার ঘুম থেকে জেগে উঠে আশুলিয়া থেকে নিয়ে আসা আসবাবপত্র দেখতে পান। পরে এলইডি টিভি, ওয়ারড্রপ, খাট, সিলিন্ডারসহ গ্যাস চুলা, মিটসেফ, বিভিন্ন কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য দ্রব্য-সামগ্রী নিজের কেনা বলে দাবি করেন। তবে সাগরি তার সে দাবি অস্বীকার করলে দুজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া লেগে যায়।

ঘটনার সময় সাগরির ভাই নাহিদ হোসেনসহ আত্মীয়স্বজন মিলে কাউসারকে বেধড়ক মারপিট করে। মার খাওয়ার পরেও সাগরির বাড়িতেই রাত কাটিয়ে দেন প্রেমিক কাউসার। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বরর সকাল আটটার দিকে সাগরির বাবা সাহানুজ্জামান গ্রামবাসীকে নিয়ে কাউসার ও তার মেয়ে সাগরি দুজনকেই জোর করে রিকশায় তুলে কয়েক দফায় বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা চালান।

তবে এ ব্যাপারে কোনো সুরাহা না হওয়ায় সাগরির বাড়ি থেকে দুশ গজ দূরে একটি বাঁশঝাড়ে গিয়ে প্রেমিকা সাগরির ওপর অভিমান করে বিষপান করেন কাউসার। তড়িঘড়ি গ্রামবাসী কাউসারকে বনপাড়া আমিনা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করান।

এদিকে, কাউসারের বিষপানের খবর পেয়ে তার আত্মীয় স্বজন ছুটে আসেন বনপাড়া আমিনা হাসপাতালে। তবে কাউসারে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। তবে বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাউসার মারা যান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কাটা চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

লালপুরের স্থানীয় কদিমচিলান ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা মাস্টার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন জানান, কাউসার হোসেনের পরিবারের সদস্যরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top