Tuesday , September 26 2017
শিরোনাম
You are here: Home / জাতীয় / মিরপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে আরও বোমা উদ্ধার, অভিযান শেষ করতে সময় লাগবে: র‌্যাব

মিরপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে আরও বোমা উদ্ধার, অভিযান শেষ করতে সময় লাগবে: র‌্যাব

মিরপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে আরও বোমা উদ্ধার, অভিযান শেষ করতে সময় লাগবে: র‌্যাব

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

মিরপুরের মাজার রোডের জঙ্গি আস্তানায় আরও কিছু বিস্ফোরক থাকার কথা জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, অভিযান শেষ করতে তাদের আরও সময় লাগবে। এদিকে এক দম্পতি ওই বাড়ির সামনে এসেছেন তাদের ছেলের খোঁজে, যিনি আবদুল্লাহর কবুতরের খামারে কাজ করতেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ছয় তলা ওই বাড়িতে আবার তল্লাশি শুরুর পর দুপরে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার এই পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল (গত বুধবার) রাতে আমরা অভিযান স্থগিত করেছিলাম। সেখানে শক্তিশালী বোমা শনাক্ত করা হয়েছিল। আমাদের বোম ডিসপোজাল ইউনিট কাজ করেছে। আজ বিভিন্ন কার্টনের মধ্যে লুকানো অবস্থায় বেশ কিছু আইইডি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বাসার বিভিন্ন কক্ষে কার্টনের মধ্যে কবুতরের খাবার ও বিভিন্ন ‘ডিভাইস’সহ বিভিন্ন সামগ্রী থাকায় তল্লাশির সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে বলে জানান মুফতি মাহমুদ। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে আমরা সেখানে ইম্প্রোভাইসড ধারালো অস্ত্র পেয়েছি লুকানো অবস্থায়। অভিযান শেষ করতে আমাদের আরও কিছু সময় লাগবে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই বাড়িতে দ্বিতীয় দিনের তল্লাশি শুরুর পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পর সংবাদকর্মীদের ভেতরে গিয়ে ছবি তোলার সুযোগ দেওয়া হয়। র‌্যাবের বোম নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট এখন ষষ্ঠ তলায় কাজ করছে জানিয়ে মুফতি মাহমুদ বলেন, আশা করছি বিকালের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তা না হলে পুনরায় অভিযান শুরু করতে আরও একটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। মাজার রোডের পাশে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলির ওই ছয় তলা ভবনের প্রতিটি তলায় চারটি করে ইউনিট। তার মধ্যে পঞ্চম তলার দুটি ইউনিটে সন্দেহভাজন জঙ্গি আবদুল্লাহ পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। ষষ্ঠ তলার অর্ধেক অংশে তিনি কবুতর পুষতেন। বাকি খোলা জায়গাও কবুতর রাখতে ব্যবহার করা হত। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় সোমবার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ‘জেএমবির জঙ্গি’ দুই ভাইকে ড্রোন ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটকের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন মধ্যরাতে মিরপুরের ওই বাড়িতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ভবনটি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয় পাশের একটি স্কুলে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় ‘দুর্র্ধষ জঙ্গি’ আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই কর্মচারী আছেন। মঙ্গলবার সারাদিন র‌্যাবের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে আবদুল্লাহকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা চলে। সন্ধ্যায় জানানো হয়, আবদুল্লাহ আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু রাত পৌনে ১০টার দিকে ওই ভবনে বিকট শব্দে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। গত বুধবার সকাল থেকে সারাদিন তল্লাশি চালিয়ে বিকালে পঞ্চম তলার ওই বাসা থেকে সাতজনের খুলি ও পোড়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব। এ বাহিনীর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ গত বুধবার বিকালে সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গি আবদুল্লাহ নিজেই বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তাতে তারা নিহত হয়। র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহ ২০০৫ সাল থেকে জেএমবিতে জড়িত। তার বাসায় জঙ্গিদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হত, বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। সারোয়ার জাহান, তামিম চৌধুরী, সোহেল মাহফুজের মতো বড় বড় জঙ্গিরাও বিভিন্ন সময়ে আবদুল্লাহর বাসায় থেকে গেছেন। আবদুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ওই বাড়ির মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ এবং ওই এলাকার নৈশপ্রহরী সিরাজুল ইসলামকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। ‘জঙ্গি আস্তানায়’ বিস্ফোরণের পর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দারুস সালাম থানায় দায়ের করা হয়েছে একটি ‘অপমৃত্যু’ মামলা। এদিকে ভোলা থেকে আবদুল মালেক নামের এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী নূরজাহান বেগম গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরের ওই বাড়ির সামনে আসেন তাদের ছেলে কামালউদ্দিনের (২২) খোঁজে। নূরজাহান বেগম সাংবাদিকদের জানান, গত ৬ মাস ধরে আব্দুল্লাহর কবুতরের খামারে কাজ করে আসছিলেন কামালউদ্দিন। রাতে থাকতেন মিরপুরের হরিরামপুরে বোনের বাসায়। ঈদের আগের রাতে তার ভোলায় যাওয়ার কথা ছিল। পরে বলেছিল মাংস নিয়ে আসবে। কিন্তু শনিবার দিনের বেলায় জানায়, এখনো বেতন হয়নি, বেতন হলে বাড়িতে যাবে। আব্দুল মালেক বলেন, শনিবার রাত থেকেই কামালউদ্দিনের ফোন বন্ধ। রোববার ও সোমবারও বন্ধ ছিল। পরদিন টেলিভিশনে আব্দুল্লাহর বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানের কথা জানতে পারেন। কামালউদ্দিন গত রোজার ঈদে শেষবার বাড়ি গিয়েছিলেন জানিয়ে তার বাবা বলেন, আমার ছেলেটা কাজ করতে এসে মারা গেল। তারে এখন কই পামু? ওই বাড়িতে যে সাতজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, র‌্যাবের ধারণা অনুযায়ী তারা হলেন- সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্য আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী নাসরিন ও ফাতেমা, তিন থেকে নয় বছর বয়সী দুই ছেলে ওমর ও ওসামা এবং আবদুল্লাহর দুই কর্মচারী, যাদের নাম র‌্যাব জানাতে পারেনি। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সাতটি মৃতদেহ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে কয়লার মত। তাদের ময়নাতদন্ত হয়েছে। আইডেন্টিফাই করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।ৃ সবাইকে শনাক্ত করতে সময় লাগবে।

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top