Tuesday , November 21 2017
শিরোনাম
You are here: Home / দেশ / বন্যার প্রভাবে রাজধানীতে সবজির দাম চড়া

বন্যার প্রভাবে রাজধানীতে সবজির দাম চড়া

বন্যার প্রভাবে রাজধানীতে সবজির দাম চড়া

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

বন্যার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজার গুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার কারওয়ানবাজার ও মিরপুরসহ কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজারে গেলে সবজির দাম বৃদ্ধির জন্য সারাদেশের বন্যা পরিস্থিতিকে দায়ী করেন ব্যবসায়ীরা। তবে সবজির ‘আগুন দাম’ উল্লেখ করে বন্যা পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের দাম বৃদ্ধির অজুহাত বলে অভিযোগ তোলেন ক্রেতারা। আলু ছাড়া প্রতিটি সবজিই বিক্রি হয় চড়া দামে। পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। খুচরা বাজারে এসে সেই সবজি বিক্রি হয় সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে। খুচরা বাজারে করলা ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০-১৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা ও শসা ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। প্রতিটি লাউ ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০-৮০ টাকা এবং হালিপ্রতি কাঁচকলা ৫০ টাকা বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। পাকা টমেটো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার একবারেই বাইরে চলে গেছে, প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১৮০-২০০ টাকায়। শুধুমাত্র বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয় ১৮ থেকে ২৫ টাকা করে। শাকের দামেও ঊর্ধ্বগতি। প্রতি আঁটি লাউ শাক ২৫-৩০ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা, কলমি শাক ১০ টাকা ও কঁচু শাক ১৫ টাকা করে বিক্রি হয়। কারওয়ানবাজারের সবজি বিক্রেতা মনসুর বলেন, সারা দেশে বন্যা হয়, পানিতে ডুবে আছে সবজির ক্ষেত। ঢাকায় সবজির গাড়ি আসতে পারছে না। এ অবস্থায় দাম তো বাড়বেই। নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা রুহুল আমিন বলেন, বন্যা হলে সবজির দাম বাড়বে- এটি স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক নয়। সবজির দাম অস্বাভাবিক বেশি বলে অভিযোগ করেন ক্রেতা মাসুদ রহমান। তিনি বলেন, একবারে লাগামছাড়া দাম দেখছি সবজির। বন্যার কারণে এত বাড়বে- এটি মেনে নেওয়া যায় না। নিম্ন আয়ের মানুষ দামের সঙ্গে পেরে উঠবেন না। তবে মাছের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। সাইজ ভেদে প্রতি কেজি রুই ১৭০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ টাকা, চিংড়ি বড় সাইজ ৬০০ টাকা, বড় কাতলা ২৫০ টাকা কেজি, পাবদা ৫০০ টাকা ও দেশি টেংরা মাছ ৩০০ টাকা এবং প্রতিটি ইলিশ ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করে বিক্রি হয়। কারওয়ানবাজারে মাছ কিনতে আসা মো. মানিক বলেন, বাজারে প্রচুর মাছ দেখতে পাচ্ছি। দেশি মাছও অনেক এসেছে। দাম স্বাভাবিক মনে হয়, নাগালের মধ্যেই আছে। এদিকে, গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৩ থেকে ৬ টাকা করে কমেছে হঠাৎ অগ্নিমূল্যে চলে যাওয়া পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে চালের বাজার রয়েছে স্থিতিশীল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বাজারে চাহিদা বাড়লেও বর্ষা মৌসুমে ভারতের উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে বন্যার কারণে দেশটি থেকে পেঁয়াজের আমদানি কমে যায়। ফলে পণ্যটির কেজিপ্রতি দাম ২৫-৩০ টাকা থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে গত সপ্তাহে ৬০-৬৫ টাকায় পৌঁছে যায়। এখন আমদানি কিছুটা বাড়ায় দামও সামান্য কমেছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারিতে কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৭ টাকায় বিক্রি হয়। যা গত সপ্তাহে ছিলো যথাক্রমে ৫৩ টাকা ও ৫০ টাকা। ফলে দেশি পেঁয়াজে ৩ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজে ৬ টাকা করে দাম কমেছে। নতুনবাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। যা গত সপ্তাহে ছিল যথাক্রমে ৬৫ টাকা ও ৬০ টাকা। এক্ষেত্রেও গড়ে ৫ টাকা করে কমেছে। কারওয়ানবাজারের চাল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি কেজি মোটা স্বর্ণা চাল ৪২-৪৩ টাকা, পারিজা চাল ৪২ টাকা, ভালো মানের মিনিকেট ৫৪ টাকা, সাধারণ মিনিকেট ৫২ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৪৮ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫০ টাকা, উন্নতমানের নাজিরশাইল ৫২ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা, কাটারিভোগ ৭২-৭৩ টাকা এবং পুরনো পোলাওয়ের চাল ১০০ টাকা ও নতুন পোলাওয়ের চাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। একই দামে বিক্রি হয়েছে গত সপ্তাহেও। কারওয়ানবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. ইউসুফ বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩-৬ টাকা কমেছে। কিন্তু দেশি পেঁয়াজের দাম আরও কমা উচিৎ। যে পেঁয়াজ দুই সপ্তাহে আগেও ছিলো মাত্র ৩০ টাকা, সেই পেঁয়াজ এখনো ৬০ টাকা। এটা কি করে সম্ভব? বাজার তদারকির পাশাপাশি কি কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়লো- সেটিও আমাদের জানা উচিৎ। এভাবে প্রতিনিয়ত পণ্যের দাম বাড়লে আমাদের পক্ষে রাজধানীতে বসবাস করাই কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে প্রতি বছর ২০-২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। রমজান ও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এ চাহিদার ৬০ শতাংশ ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন পেঁয়াজ দেশেই উৎপাদিত হয়। চাহিদা পূরণে আমদানি করা বাকি পেঁয়াজের বেশিরভাগই আসে পাশের দেশ ভারত থেকে। কারওয়ানবাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সোলাইমান হোসেন বলেন, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ বেশি বিক্রি হয়। আমরা যখন যেমন কিনে আনি, তেমনভাবেই বিক্রি করি। বাজারের ওপর ভিত্তি করেই দাম ওঠা-নামা করে। গত বৃহস্পতিবার থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আসতে শুরু করায় দাম কমতে শুরু করেছে। এখন থেকে কমতেই থাকবে। নতুনবাজারের খুচরা বিক্রেতা হাসান ইকরাম বলেন, দেশি পেঁয়াজের দাম মোকামে গত বৃহস্পতিবার থেকে একটু কমেছে। এ কয়েকদিন দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে আমাদের ঝগড়া হচ্ছিল। কিন্তু আমরা তো আর ইচ্ছে করে পণ্যের দাম বাড়াই না। যেমন কিনতে পারি, তেমনি বিক্রি করি। ারওয়ানবাজারের চাল বিক্রেতা আজমান হোসাইন বলেন, চালের দাম বাড়েনি। গত সপ্তাহে যা ছিলো, সে দামেই পাইকারি বিক্রি করছি। তবে সামনে দাম কমার চেয়ে বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top