Thursday , May 25 2017
শিরোনাম
You are here: Home / জাতীয় / সুন্দরগঞ্জে ৩ স্কুলছাত্র অপহরণ মুক্তিপণ দাবি

সুন্দরগঞ্জে ৩ স্কুলছাত্র অপহরণ মুক্তিপণ দাবি

সুন্দরগঞ্জে ৩ স্কুলছাত্র অপহরণ মুক্তিপণ দাবি
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ফলগাছা এবং দেওডোবা গ্রামের তিন স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অপহরণ হওয়া শিক্ষার্থীরা ফলগাছা গ্রামের পার্শ্ববর্তী হাজী এলাহী উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। এর মধ্যে ফলগাছা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শিমুল মিয়া (১৪) দশম, একই গ্রামের আবদুল মাজেদের ছেলে শামিম মিয়া (১৩) নবম এবং একই ইউনিয়নের দেওডোবা গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে অন্তর মিয়া (১৪) দশম শ্রেণিতে পড়ে।
গত শুক্রবার বিকেলে শিমুল মিয়া তার দুই বন্ধু শামিম ও অন্তরকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী চৌধুরানী বাজারে বই কিনতে যায়। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও তারা বাড়ি ফিরেনি। পরে  বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান মেলেনি। এমনকি তাদের কাছে থাকা মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পরদিন শনিবার দুপুরে শিমুলের বাবা শহিদুল ইসলামকে মুঠোফোনে বলা হয়, আমি কক্সবাজার থেকে বলছি। আমি তোমার ভাই শরিফুল ইসলামের কাছে তিনলাখ টাকা পাই। টাকা না দিলে তোমার ছেলেসহ তিনজনকে পাবে না। পরে তার মুঠোফোন কখনো বন্ধ, কখনো চালু পাওয়া যায়। চালু পাওয়া গেলেও ফোন রিসিভ করা হয় না।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ঐ ব্যক্তি গতকালও সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে আমার কাছে ফোন করে পুনরায় তিনলাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ছেলেকে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেয়। পাওনা টাকার বিষয়ে শরিফুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে কেউ টাকা পান না। এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
এদিকে শামিম মিয়ার বাবা আবদুল মাজেদ বলেন, গত শুক্রবার দুপুরে বই কেনার জন্য টাকা নেয় শামিম। এরপর বিকেলে বাড়িতে বলে সে চৌধুরানী বাজারে যায়। এরপর থেকে গত চারদিনেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরদিন আমাকেও ফোন করে বলা হয়, তোমার ছেলে ভাল আছে। টাকা পেলে ছেড়ে দেবো। একই মন্তব্য করেন অন্তর মিয়ার নুরু মিয়া। তিনি বলেন, বই কেনার উদ্দেশ্যেই বাড়ি থেকে বের হয় অন্তর। পরে জানতে পারি তার সঙ্গে শিমুল এবং শামিমও ছিলো। সেইদিন থেকে চারদিন পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তিনজনকেই পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আমার কাছেও ফোন করে বলা হয়, তোমার ছেলে ভাল আছে। টাকা পেলে ছেড়ে দেবো।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্কুলছাত্রদের উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top