Tuesday , November 21 2017
শিরোনাম
You are here: Home / নির্যাতন / ঘোড়াঘাটে নারী নির্যাতন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা

ঘোড়াঘাটে নারী নির্যাতন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা

ঘোড়াঘাটে নারী নির্যাতন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় নারী নির্যাতন ও যৌতুক প্রথা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, থানা পুলিশ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। যৌতুক নারী সমাজের জন্য একটি মারাত্মক অভিশাপ। এই অভিশাপের থাবায় পরে শত শত নারী অকালে ঝরে পড়ছে। যৌতুকের কারণে অনেক নারীর পিতা/মাতা তাদের ভিটামাটি বিক্রি করে পথে বসেছে, এমন নজির একাধিক রয়েছে। সরকার যখন নারী নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোচ্ছার, তেমনি নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ২ হাজার সালে আইন করেন এবং ২০১০ সালে তা সংশোধন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন কঠোর করেন। ঠিক সেই সময় নারী নির্যাতন আইন প্রয়োগে গরিমশি করছেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের পুলিশ।
নুরজাহানপুর গ্রামের মুত্তুজার কন্যা মোছা. নাসরিন আক্তারকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে বিয়ে দেয়ার পর থেকে স্বামী জাহিদুল ইসলাম তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে তার বাড়ি থেকে আরও যৌতুকের জন্য বের করে দেয়। এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ করেও কোনো ফল না পাওয়ায় অসহায় নাসরিন গত ২১ নভেম্বর ঘোড়াঘাট থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নেয়ায় স্বামী জাহিদুল ইসলাম জানতে পারে যে, থানায় নারী নির্যাতন মামলা হয়নি। এ সংবাদ পেয়ে ২ স্তানের জননী নাসরিনকে স্বামী জাহিদুল এক তরফা তালাক প্রদান করে। এদিকে নাসরিন বিচার না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আইন থেকেও নাসরিন বিচার পেল না। আপরদিকে রানীগঞ্জ বিন্নাগাড়ীর ভিভুকের কন্যা নেপালী রানী ভাল বেসে বিয়ে করেও তার ঘর বাঁধা হলো না। নেপালী রানীকে ১ বছরের মাথায় ছেড়ে স্বামী অন্য মেয়েকে বিয়ে করে এবং যৌতুকের টাকার জন্য নেপালী রানীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং শারীরিক নির্যাতন করে। এ ঘটনায় নেপালী বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করতে আসলে তাকে মামলা না করে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধি থানা পুলিশের সাথে কথা বললে তারা জানান পুলিশ সুপারের নির্দেশ আছে নারী নির্যাতন মামলা রুজু না করতে। তবে নারীরা কি সেই জাহেলী আমলে ফিরে গেছে। জাহেলী আমলে নারীদেক হাটেবাজারে বেচাকিনা হতো এবং নারী সন্তান জন্ম নিলে তাকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। আমরা সেই আমলে ফিরে গেছি। কেন নারীদেক নিয়ে অবহেলা? আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ নারীকে মায়ের মর্যাদা দিয়েছেন। আমরা পারি না নারীকে সম্মান দিতে বা ভালো বাসতে! দেশে আইন থাকলেও তার কেন প্রয়োগ নাই?

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top