Tuesday , November 21 2017
শিরোনাম
You are here: Home / ঢাকা / বৈদ্যুতিক তার অপসারণে রাস্তা খোঁড়ায় যানজটের ভোগান্তি

বৈদ্যুতিক তার অপসারণে রাস্তা খোঁড়ায় যানজটের ভোগান্তি

বৈদ্যুতিক তার অপসারণে রাস্তা খোঁড়ায় যানজটের ভোগান্তি

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

রাজধানীতে মেট্রোরেলের মূল কাজ শুরুর আগে বৈদ্যুতিক তার অপসারণে রাস্তা খোঁড়ায় যানজটের ভোগান্তিতে পড়েছেন মিরপুরের বাসিন্দারা; ছোট হয়ে আসা রাস্তায় দুর্বিসহ হয়ে উঠছে প্রতিদিনের যাতায়াত। প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হলে এই সড়কের পরিস্থিতি কী হবে, তা ভেবে আঁতকে উঠছেন ভুক্তভোগীরা। জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাতে কাজ করার কথা জানালেও দুর্ভোগ না কমায় এলাকা ছাড়ার কথাও ভাবছেন কেউ কেউ। সূচি অনুযায়ী আগামী বছরের জুন থেকে ঢাকা মেট্রো রেল প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হওয়ার কথা। তার আগে এ বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে প্রকল্প এলাকায় থাকা বিভিন্ন সেবাসংস্থার অবকাঠামো সরানোর কাজ। ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক সঞ্চালন তার প্রতিস্থাপনের জন্য এরই মধ্যে বেগম রোকেয়া সরণীর তালতলা থেকে মিরপুর ১০ নম্বর পর্যন্ত সড়কের একপাশ খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। তিন লেনের মাঝের একটি লেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ব্যারিকেড দিয়ে। দুই পাশের লেন দিয়ে বিপুল সংখ্যক গাড়িকে ধীরে ধীরে চলতে হওয়ায় প্রতিদিন সকাল-বিকাল তৈরি হচ্ছে যানজট। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অফিসগামী যাত্রীদের। এই রাস্তায় এত গাড়ি চলাচল করে; এখন একটা একটা করে গাড়ি যাওয়ায় যানজট হচ্ছে, বলেন তালতলার বাসিন্দা তৌফিকুল ইসলাম। প্রতিদিন এ ভোগান্তি পেরিয়ে তাকে যেতে হয় মহাখালী ডিওএইচএসে, সেখানেই তার অফিস। গত বৃহস্পতিবার যানজটের কারণে কাজ বাদ দিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন তালতলার আরেক বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস। গতকাল (বুধবার) হাই কোর্টে যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় উঠেছিলাম। কিন্তু প্রায় আধাঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে শেষে বাসায় ফিরে গেছি। মেট্রোরেলের কাজ পুরোদমে শুরু হলে এ পথের ভোগান্তি আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন আবদুল্লাহপুর-মোহাম্মদপুর রুটের তেঁতুলিয়া পরিবহনের যাত্রী আবদুস সালাম। বিদ্যুতের লাইন সরানোর জন্য একটু খুঁড়েছে। তাতেই এ অবস্থা। ভোগান্তি তো মাত্র শুরু। মেট্রোরেলের কাজ ধরলে এই রাস্তাও মগবাজার-মালিবাগের মত হয়ে যাবে, চলা যাবে না। দীর্ঘমেয়াদী যানজটের কথা ভেবে মিরপুর এলাকা থেকে বাসা বদলে ফেলার কথা ভাবছেন বলেও জানালেন তিনি। অবশ্য তালতলা বাসস্ট্যান্ডের চা দোকানদার শহীদুল ইসলাম মনে করেন, যানজটের জন্য বাস চালকরাও দায়ী। হ্যারা যাত্রী দেখলেই ব্রেক কইরা দেয়। আস্তে আস্তে যাত্রী নিতে নিতে যায়। এই কারণে পিছনের গাড়ি আটকাইয়া জ্যাম লাইগ্যা যায়। ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের পরিচালক মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানালেন, জনগণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে রাস্তার নিচের তার সরানোর কাজ তারা রাতে সারছেন। আগারগাঁও থেকে মিরপুর ১০ নম্বর পর্যন্ত এমআরটির লাইন-৬ এর অ্যালাইনমেন্ট বরাবর থাকা ১৩২ কেভি ভূগর্ভস্থ কেবল সরানোর কাজ চলছে এখন। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ কাজটি করছে। বিদ্যুতের তার সরিয়ে রাস্তার এক পাশে না নিয়ে গেলে মেট্রোরেলের পাইলিং করা যাবে না বলে জানান তিনি। ভূগর্ভস্থ কেবল স্থানান্তর প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের তার সরানোর জন্যই তাদের রাস্তা খুঁড়তে হচ্ছে। ১ নভেম্বর উদ্বোধনের পর ৫ তারিখ খনন শুরু হয়েছে। সঞ্চালন লাইন সড়কের মাঝখান থেকে সড়কের বাঁপাশে নিয়ে আসা হবে। এখন নতুন সড়ক খুঁড়ে নতুন লাইন বসিয়ে পরে পুরোনো লাইন তুলে ফেলা হবে। রাস্তা খুঁড়লে জনগণের যাতায়াতে সমস্যা হবে, এটা বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন শফিক। আমরা রাতে কাজ করছি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাজ শুরু হয়ে সকাল ৭টা পর্যন্ত চলে। যানবাহন আর লোকজন রাস্তায় বের হওয়ার আগেই দিনের কাজ শেষ করা হয়। ভোগান্তি কমাতে ‘যে অংশে কাজ হচ্ছে’ শুধু সেখানেই ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top