Thursday , April 27 2017
শিরোনাম
You are here: Home / জাতীয় / বিদেশি সাহায্য পেতে দেশে খাদ্য ঘাটতি রাখতে চেয়েছিল বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী

বিদেশি সাহায্য পেতে দেশে খাদ্য ঘাটতি রাখতে চেয়েছিল বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী

বিদেশি সাহায্য পেতে দেশে খাদ্য ঘাটতি রাখতে চেয়েছিল বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

full_1648268041_1472973984 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের চিন্তাভাবনাই ছিল দেশে খাদ্য ঘাটতি রাখা। কারণ, খাদ্য ঘাটতি থাকলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রকল্প তিনটি হলো ‘শিশুদের সুরক্ষায় ‘১০৯৮’ হেল্প লাইন’; মংলায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন শস্য ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন গুদাম এবং খননকৃত মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-চ্যানেল উন্মুক্তকরণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা খাদ্য গুদামজাত করার জন্য সাইলো উদ্বোধন করছি। এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই অর্জন আমাদের চিন্তাভাবনার কারণেই সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের চিন্তাভাবনাই হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ অন্যের কাছে হাত পাতবে না। আমরা ভাবি, নিজেরা কীভাবে দেশের মানুষকে খাদ্যের নিরাপত্তা দেবো। কিন্তু বিএনপির চিন্তাভাবনা ছিল, যদি দেশে ঘাটতি থাকে তাহলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যাবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের মানুষ ভিক্ষা করে যাবে, আর আমি ভিক্ষুকের সরদার হয়ে বসে থাকবো, তার জন্য ক্ষমতায় আসিনি। আমরা নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে চলবো। তিনি দেশের খাদ্য ও কৃষিখাতের উন্নয়নে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তুলে ধরেন কৃষক ও বর্গাচাষিদের দেওয়া নানা সুযোগ ও প্রণোদনার কথাও। প্রধানমন্ত্রী তাদের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারের সফলতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা তখন যখন ক্ষমতায় ছিলাম, ৫ বছরে খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে যাই। খাদ্য ঘাটতি রাখার চিন্তাভাবনা যাদের, সেই বিএনপি এই উদ্বৃত্ত অবস্থাকে ঘাটতিতে নামিয়ে আনে। আমরা ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় এসে দেখলাম দেশে আবারও খাদ্য ঘাটতি। সেই অবস্থার বদল করেছি আবার। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যিনি স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন, সেই মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাঙালি জাঁতি নিজে মাথা উঁচু করে চলবে। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই আওয়ামী লীগ কাজ করছে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের নজির ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই প্রকল্পের উদ্বোধন। এসময় পুনঃখনন শেষে বাগেরহাটের ‘মংলা-ঘষিয়াখালী’ নৌ-চ্যানেল এবং দেশের বৃহত্তম খাদ্যগুদাম ‘মংলা সাইলো’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাইলো ও নৌ-চ্যানেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নবনির্মিত ১১টি ড্রেজার উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনকালে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। এসময় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন- নৌ সচিব অশোক মাধব রায়, খাদ্য মন্ত্রণালয়েরর সচিব এ এম বদরুদ্দোজা, বিআইডব্লিউটএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মীর শওকত আলী বাদশা, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ কামরুজ্জামান টুকু প্রমুখ। এর আগে সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঈযরষফ ঐবষঢ় খরহব কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। জেটি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক স্থাপনাসহ প্রকল্পটি নির্মাণে মোট ব্যায় হয়েছে ৫৭৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৩৭৭ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ২শ’ কোটি জাপানের জেডিসিএফ অর্থায়ন করেছে। ৫০ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিক এই কনক্রিট গ্রেইন সাইলোতে যান্ত্রিক উপায়ে খাদ্য খালাসের ব্যবস্থা থাকায় অপচয় এবং খরচ কমবে। সাইলোর মতো মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সুন্দরবনের সুরক্ষার জন্য। মংলা বন্দরের আন্তর্জাতিক নৌ-রুট মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটি পুনঃখননের মাধ্যমে চলাচল উপযোগী করতে ব্যয়ে হয়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বিআইডাব্লিউটিএ। বর্তমানে চ্যানেলেটি দিয়ে পূর্ণ জোয়ারে ১৫ ফিট গভীরতার নৌযান চলাচল করছে এবং সুন্দরবন অভ্যন্তরের শ্যালা নৌ-পথটি বন্ধ রয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এয়াড়া, শিশুদের সুরক্ষায় ‘১০৯৮’ হেল্প লাইনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী এই সেবার উদ্বোধন করেন। ইউনিসেফের উদ্যোগে এই সেবাটি পরিচালিত হবে। যার মাধ্যমে পাওয়া যাবে শিশুদের বিষয়ক সবরকম তথ্য।

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top