Sunday , June 25 2017
শিরোনাম
You are here: Home / অপরাধ / তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ও তদারকির অভাবে আশঙ্কাজনক প্রাণঘাতী ঘটনা বাড়ছে

তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ও তদারকির অভাবে আশঙ্কাজনক প্রাণঘাতী ঘটনা বাড়ছে

তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ও তদারকির অভাবে আশঙ্কাজনক প্রাণঘাতী ঘটনা বাড়ছে

ডিটেকভিট নিউজ ডেস্ক

তিতাস গ্যাসের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধ সংযোগ দেয়ার কারণে গ্যাস লাইনে অগ্নিকা-সহ প্রাণহানির ঘটনা বেড়ে চলেছে। মূলত সঠিক কারিগরি পদ্ধতিতে সংযোগ না দিয়ে পাইপলাইন ফুটো করে কিংবা ভঙ্গুর পাইপের মাধ্যমে লাইন টানার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে অবহেলা এবং গ্যাস লাইন নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকাও দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি জরুরি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণেও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০১৫ সালে তিতাসের গ্যাস বিতরণ এলাকায় ২৮২টি অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। আর ২০১৪ সালে ওই ধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ২১৬টি। অর্থাৎ এক বছরে তিতাসের গ্যাস সংযোগে অগ্নিকা-ের সংখ্যা বেড়েছে ৬৬টি। তাছাড়া ২০১৪ সালে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটেছিল ৩ হাজার ৮১৯টি। কিন্তু গতবছর তা আরো ১ হাজার ৩০৪টি বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ১২৩টিতে। গতবছর সব মিলিয়ে তিতাসের সংযোগে মোট দুর্ঘটনা ঘটেছিল ৬ হাজার ৯১৯টি। বিগত ১৮ মার্চ রাজধানীর বনানীতে একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তিতাসের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। তাতে শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। গভীর রাতে বাড়ির চারতলায় ফুটো হয়ে যাওয়া গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগে। তার আগে বাড়ির মালিক রাস্তায় গ্যাস লাইন থেকে গ্যাস লিক করার বিষয়টি তিতাস গ্যাসকে জানিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তিতাস। তাছাড়া চলতি বছরেই কোরবানির ঈদের দুদিন আগে গাজীপুরের টঙ্গীতে ঘটে যায় আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ওইদিন বিসিক শিল্পনগরীতে প্যাকেজিং কারখানা টাম্পাকোয় বয়লার বিস্ফোরণ ও ভবন ধসে নিহত হন শ্রমিক, পথচারীসহ কমপক্ষে ৩৫ জন। আর আহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক। ওই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারখানা মালিক ও তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে পাল্লাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া যায়। তিতাস বলছে বয়লারে মাত্রারিক্ত গ্যাস নেয়ার কারণে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে। আর কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি বিস্ফোরণটি তিতাসের লাইন থেকেই ঘটেছে। ওসব দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত বহু প্রাণহানি ও কোটি কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটলেও তা থেকে তিতাস কোনো শিক্ষা নিচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর ভালোভাবে তদন্তও করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক অবস্থানে রয়েছে তিতাস গ্যাস। কোম্পানিটির চলতি অর্থবছরেও প্রায় ৪০০ কোটি টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিজস্ব গ্যাস সঞ্চালন লাইন মেরামত ও সুষ্ঠু সেবা নিশ্চিত করতে পারছে না তিতাস। মূলত কারিগরি ও নৈতিক পেশাদারিত্বের মানদ- যেরকম হওয়া উচিত তিতাসের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। বরং দুর্নীতি আর অনিয়মে সবকিছু নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। জবাবদিহিতাও হারিয়ে গেছে। অথচ দুর্ঘটনা বন্ধে সবার আগে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির মধ্যে বৃহত্তম হলো তিতাস। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে কোম্পানির মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৭ জন। আর আবাসিক খাতেও তিতাসের গ্রাহক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তার পর সবচেয়ে বেশি গ্যাস সরবরাহ হয় বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে।

এ প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মশিউর রহমান জানান, তিতাসের গ্যাস সংযোগ লাইন অনেক পুরনো। তাই মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনা রোধে কোম্পানির গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও টহল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা হ্রাসেও পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গ্রাহকদের সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top