Saturday , September 23 2017
শিরোনাম
You are here: Home / নির্যাতন / পুঠিয়ায় তালাকপ্রাপ্ত মহিলার অবৈধ সন্তান প্রসব ও মৃত্যু নিয়ে রহস্য

পুঠিয়ায় তালাকপ্রাপ্ত মহিলার অবৈধ সন্তান প্রসব ও মৃত্যু নিয়ে রহস্য

পুঠিয়ায় তালাকপ্রাপ্ত মহিলার অবৈধ সন্তান প্রসব ও মৃত্যু নিয়ে রহস্য

রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহীর পুঠিয়ার ধোকড়াকুলে তালাকপ্রাপ্ত এক মহিলার অবৈধ সন্তান প্রসব ও মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় বেশি আলোচনার বিষয় হলো বিএনপির কর্মী চাচার অপকর্মের বলি হলেন তালাকপ্রাপ্ত ভাতিজি মরিয়ম। অবৈধ সন্তান প্রসবের পর পরিবারের অবহেলা বিনা চিকিৎসায় মরিয়মের মৃত্যু হয়। তবে এই ছেলে সন্তানের পিতা কে এ নিয়ে রহস্য সকলের মাঝে। তবে বিএনপির কর্মী চাচা জমি বিক্রি করে বিষয়টি গ্রাম্য প্রধান বিএনপির নেতার যোগসাজশে বিভিন্ন মহলকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই সাথে এলাকাবাসী অবৈধ সন্তানের পরিচয় ও পরিকল্পিতভাবে মরিয়মকে হত্যার রহস্য উন্মেচনের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি করেন।

নাম না প্রকাশের শর্তে এলাকাবাসী জানায়, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছী ইউনিয়নের ধোকড়াকুল উত্তরপাড়া গ্রামের সমজান খামারুর মেয়ে মরিয়ম (২৪)-এর ৫ বছর পূর্বে নাটোর জেলার নলডাঙ্গা হরিগ্রাম বাবুর সাথে বিবাহ হয়। এরপর সংসারের কলহের কারণে ২ বছর পূর্বে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই বাপের বাড়িতে সৎ মায়ের সংসারে জীবনযাপন করতে থাকে। এ সময় বিএনপির কর্মী সাবেক মাদ্রাসার শিক্ষক চাচা আনসার খামারু (৫৫) তার নিজের ভাই সমজান খামারুর মেয়ে মরিয়ম এর সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে মরিয়ম অবৈধ গর্ভ ধারণ করে। এ ব্যাপারে কয়েকবার এলাকায় কিছু প্রভাবশালী বিএনপির নেতার মাধ্যমে গোপনে বিচার সালিশ করে। চাচা আনসার খামারু তার অপকর্ম ধাকতে মরিয়মের সৎ মা, বাবা ও ভাই কে গোপনে টাকার মাধ্যমে ম্যানেজ করে একই এলাকার নমীর আলীর পুত্র শহিদুল ইসলাম এর নাম প্রকাশ করায়। এ সময় শহিদুল প্রতিবাদ করে এবং ভালুকগাছী ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দায়ের করে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কয়েকবার নোটিশ প্রদান করলেও মরিয়মের পরিবার ইউনিয়ন পরিষদে আসেনি বলে জানা যায়। নাম না প্রকাশের শর্তে এলাকাবাসী আরো জানায়, চাচার কু-পরামর্শে এবং গোপনে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে মরিয়ম অবৈধ সন্তান প্রসবের কয়েক দিন পূর্বে থেকে খাবার বন্ধ করে দেয়। আর চলতি মাসে ৬ অক্টোবর সকালে স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে অবৈধ ছেলে সন্তান প্রসব করলেও সে সময় মরিয়মের প্রচ- ব্লিডিং হতে থাকে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে চাচার মদদে সৎ মা, বাবা ও ভাই মরিয়মের চিকিৎসা না করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার উদ্দেশ্য সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে ফেলে রাখে। যখন ধীরে ধীরে মরিয়মের অবস্থা খরাপ হতে থাকে তখন দুপুরের দিকে স্থানীয় চিকিৎসা ডাক্তার সামাদের নিকট নিয়ে যায়। ডা. সামাদ অপারগতা স্বীকার করে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু তার পরও তার মরিয়মকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়নি। এই পরিস্থিতি থেকেই ধারণা করা যায় যে তারা পরিকল্পিত ভাবে মরিয়মকে চিকিৎসা না করিয়ে মেরে ফেলে।

ধোকড়াকুল উত্তরাপাড়া এলাকার ডাক্তার মো. সামাদ জানান, মরিয়ময়ের ৬ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে বাচ্চা হয় তারপর থেকে প্রচ- রক্তক্ষরণ হতে থাকে এরপর দুপুরের তাকে আমার কাছে চিৎকিসার জন্য নিয়ে আসে। সে সময় মরিয়মের পরিস্থিতি খুব খারাপের কারণে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিই। তার কিছুক্ষণ পর মারা গেছে বলে খবর পাই।

মরিয়মের ভাই নাসির খামারুর কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বলেন আপনাদের কোনো তথ্য দেয়া হবে না। এ সময় আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করে।

এ ব্যাপারে ভালুকগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম জানান, এ ঘটনার সত্যতা আছে। তবে শহিদুল নামের একজনের উপর দায় দেয়া হয়েছে সে সময় শহিদুল আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের একটি অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা মরিয়মের পরিবারকে কয়েকবার নোর্টিশ পাঠাই। কিন্তু তারা ইউনিয়ন পরিষদে আসেনি।

আনসার খামারুর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কথা না বলেই মোবাইলের লাইন কেটে দেন।

মেডিক্যাল অফিসার জানান, একজন রোগীর যখন সন্তান প্রসবের পর ব্লিডিং হতে থাকে সে সময় রোগীকে স্থানীয় হাসপাতালে বা ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা নিতে না আসা বা দেরিতে নিয়ে আসা অসৎ উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য হতে পারে।

এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি শুনেছি।

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top