Tuesday , September 26 2017
শিরোনাম
You are here: Home / মানবাধিকার / হাসপাতালের বাগানে সন্তান প্রসবকারী সেই আমেনা বেগম এখন কোথায়

হাসপাতালের বাগানে সন্তান প্রসবকারী সেই আমেনা বেগম এখন কোথায়

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্কঃ

বিশ্ব মা দিবসে রাজবাড়ির গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাগানে কন্যাসন্তান জন্ম দেয়া সেই অসহায় মা আমেনা বেগম এখন কোথায়? ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রার খাতায় আমেনা বেগমের ভর্তির তথ্য পাওয়া গেলেও পুরো হাসপাতাল তন্ন তন্ন করে খুঁজে তাকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ ও সমাজসেবা বিভাগ পরিচালিত রোগী কল্যাণ সমিতির সাথে যোগাযোগ করলে তারাও আমেনা বেগমের কোনো সন্ধান দিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক রহস্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, সম্ভবত আমেনা বেগম দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চলে গেছে। তবে গোয়ালন্দে সরকারী হাসপাতালে সামান্য ওষুধের টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হতদরিদ্র মা আমেনা বেগমকে দালালেরা প্রাইভেট হাসপাতালে ভাগিয়ে নেবে বিষয়টি মোটেও স্বাভাবিক নয় বলেই ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। উদ্বেগের বিষয় হলো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ও নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি এই অসহায় মায়ের পরিণতি কি হলো সেটি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনই মাথাব্যাথা নেই।

ফমেক হাসপাতালে আজ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রোববার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে আমেনা বেগমকে ফমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের ভর্তি রেজিস্ট্রারে ৩৮৩৪৯/৮৯ নং সিরিয়ালে তার ভর্তির তথ্য রয়েছে। কর্তব্যরত নার্স জানান, একজন চিকিৎসক তাকে ভর্তি করার পর সম্পূর্ণ বিনা খরচে চিকিৎসা চালানো চালানোর জন্য সুপারিশ করেছেন। রেজিস্ট্রারে ওই চিকিৎসকের সুপারিশকৃত ইনিসিয়াল স্বাক্ষরও দেখতে পাওয়া যায়।

ভর্তির পর আমেনা বেগমকে কোথায় রাখা হয়েছে জানতে চাইলে জরুরি বিভাগ থেকে বলা হয়, হাসপাতালের নতুন ভবনের তিন তলায় গাইনি ও অবস বিভাগে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তিনতলার গাইনি ও অবস বিভাগসহ ৬ তলার কেবিন ওয়ার্ড ও পুরনো বিল্ডিংয়ের বিশেষায়িত নবজতাকদের ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. বদরুজ্জামান টিপুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি রোগীর অবস্থা দেখে তাকে দ্রুত ৩য় তলায় গাইনি ও অব্স বিভাগে ভর্তি করে দেই। দরিদ্র হওয়ায় তাকে ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। গাইনি ও অব্স বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং সহকারী রেজিস্ট্রারের কক্ষে গিয়ে আমেনা বেগমের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা কর্তব্যরত নার্সদের সাথে যোগাযোগের জন্য বলেন।

কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সালমা সুলতানা নয়া দিগন্তকে জানান, বর্তমানে এই ওয়ার্ডে একজন মাত্র আমেনা বেগম রয়েছেন যার বাড়ি ফরিদপুরের রক্ষিপুর মহল্লায়। এছাড়া আর কোন আমেনা বেগম নেই। রেজিস্ট্রারে ভর্তির কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, তাহলে সম্ভবত হাসপাতাল থেকে চলে গেছে।

ফমেক হাসপতালে আনার আগে আমেনা বেগমের প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে ৯ মাসে জন্ম নেয়া নবজাতক সন্তানও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিল বলে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: রাজিব দে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন। একইসাথে রাজিব দে জানিয়েছিলেন, সম্পূর্ণ সরকারি খরচে আমেনা বেগমের চিকিৎসা চলছে।

ফমেক হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগের আওতায় পরিচালিত রোগী কল্যাণ সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত ফমেক হাসপাতালর স্টাফ রেজাউল ইসলামের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানতে চান, কোন আমেনা বেগম? তাকে গোয়ালন্দের হাসপাতালের বাগানে সন্তান জন্ম দেয়া আমেনা বেগমের তথ্য জানানো পর তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তবে তিনি প্রতিবদেককে বুধবার হাসপাতালে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তখন তিনি আমেনা বেগমকে খুঁজে দেখবেন।

ফমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় (উপ-পরিচালক) ডা. আবুল কালাম মো: আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও এবিষয়ে কিছু জানেন না বলে নয়া দিগন্তকে জানান। তাকে হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে ভর্তির নম্বর দেখিয়ে জানতে চাইলে বলেন, তাহলে আমেনা বেগমকে দালালেরা হাসপাতাল থেকে ভাগিয়ে নিয়ে গেছে। ‘সরকারী হাসপাতালের সামান্য ওষুধের টাকা জোগাড় করতে না পারা এই হতদরিদ্র অসহায় মাকে দালালেরা ভাগিয়ে নেবে?’- এ প্রশ্ন করা হলে হাসপাতালের এই তত্ত্বাবধায় হেসে উঠে বলেন, ‘দালালদের কাছে গরিব আর ফকির বলতে কিছু নেই।’

About admin

Comments are closed.

Scroll To Top